শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৩

কবিতাঃ মেঘমল্লার

প্রকাশ্যে দিবালোকেও অস্পষ্ট কুয়াশা , তরুণীরা হাতে পেয়েছে যখনই
পড়তে চেয়েছে, পড়েছে তবে বুঝে ছিল কি !

যে মেয়েটি তার কলঙ্কময় ইতিহাসে স্বেচ্ছায় ধারণ করেছিল
তোমারি বকুল ফুল, আশ্চর্য , সেও চেনেনি সম্পূর্ণ ।

আর আমরা ! না, আত্ম-অহংকারে অলঙ্কৃত বিলাসী শিশু ,
কি করে চিনবে তোমায় !

প্রানোজ্বল ইতিবৃত্তে সম্পর্ককে বানাতে চাইতে নিখাদ ,
স্বার্থ সুরায় ডুবেছে সাধের স্বর্গ ।

এখন জেগে দেখি শূন্যতায় ভরেছে আঙন ,
থমথমে শ্বাস ,স্তব্ধতা ভাঙ্গে না কিছুতেই ।

সকাল ৬ : ৩০

কথা ছিল শঙ্খ বাজবে আর পাঁচটা দিনের মতো,
বৈকল্পিক ধূসর ক্যানভাসে রিক্ত কিরণ 

টিপটিপ অশ্রুধারা পাতায় পাতায় ।

কোকিল, কাকভোরে আজ গেয়েছিলে কোনো আগমনী ?
না কি ঘনীভূত আঁধারে কেবল অস্তরাগ ?

সকাল ৮ : ০০

বিপর্যস্ত পথে দিশাহীন বাতাস মুখচোরা ।
''যদি মারা যায়, কে, কে করবে নিরসন
                          অনাগত প্রশ্নের ?

কুঁড়িরা আজ রেখেছে স্থগিত তার সাজসজ্জা
সমাজের ভয়ে ,

'ওদের' চোখে মুখেও বিপন্নতা
           -লোকটা মারা গেল না তো !

সত্যি কারের বন্ধু ছিলাম এমন দাবি আমার অন্তত সাজে না,
শুধু তোমাকে যত না পাওয়া যাচ্ছে , মনে হচ্ছে -
যাক, তুমি বেঁচে গেলে খুব ।

দুপুর -১২ : ৩০

অতঃপর ক্লান্ত খানাতল্লাশি ,পাওয়া গেল না
কোথাও কোনোধারে ।
একটা চিরকুট বিছানার কোনে এতক্ষণ লুকিয়ে ছিল .
সঙ্গোপনে রেখেছিল আশা -
                    যদি ফিরে আসো আলোয় !

অচরিতার্থ হয়ে নিজেকে সঁপেছে লোক চক্ষুতে
কাটা কাটা রক্তে লেখা-
                  ' চললাম '
পড়ে অবধি ভেবেছি, ভাবতে ভাবতে দেখেছি কোদাল হাতে
তুমি একাই খুঁড়ছো সুড়ঙ্গ -
এই মানস সরোবর হতে সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে
ছুটে পালাচ্ছ ...
               পালাচ্ছ….
                      তারপর -
আর দেখা গেল না বাঁকে ।
অবাক হলাম, এই প্রথম চোখে জল এল ।


দুপুর -২ : ৫০

সাদা পায়রা গুলো আর ফেরেনি
শুনসান চিলেকোঠা নির্বাক অন্তরবেদনায়.
মাঝে মাঝে ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ ,
তোমার মায়ের ।

সান্তনা দিতে এগিয়ে যাইনি সামনে কোনো বাহ্যিক পরম্পরায় ।
শুধু আনমনে পেছন ফিরে দেখেছি স্ব-মহিমায় কালবৈশাখী ,
বিজয়রথে দলিত বাড়িঘর খেতখামার ,
তুমি সর্বহারা হয়ে মায়ের কোলেই নিচ্ছ
                            শেষ আশ্রয় ।

স্বপ্ন :

স্বপ্নের সাথে দেখা হলেই তার বর্ণনায় মুখর হতে ।

একটুকরো ছাদ ,তার নিচে গড়া ছোট্ট সংসার
অভাব ভাব মিলে মিশে রবে স্নিগ্ধ হাঁসির গহনে ।

সবই ছিল ছোটো ছোটো ,বড় কিছু চাওনি কখনই ।

উড়ে গেছে সে , পুড়ে গেছে সেই
নীল ঘুড়ি ।

কোনো একদিন যেথা শৈশবের অমৃত ধারা বয়েছিল
ঊষ্ণপ্রবাহে অচিন নৃত্যে তালে, ছোটো ছোটো
কৈশোর কুড়িয়ে জমা করেছিলে কদম তলায় .
সেইসব ফুল আজ শ্মশানের জাগ্রত অর্ধদগ্ধ সফিলের
চূড়ামনি যেন ।

এরপর অস্তরাগ বেজে উঠছে বঞ্চনার মহাকাব্যে ।
স্ংসারের বাতাসে ধুলিকনার ভার ,
শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ।
স্ংসারেরও সংস্কার প্রয়োজন ।

পাতাগুলো :

ডায়েরিটা হাতে পেয়ে বারবার পড়ছি , নানান লেখায়
বর্ণনায় মাদল বাজছে বিহু'র ।

আরে ! এ ছবি বেশ চেনা চেনা লাগছে না !
তাই তো ! হ্যাঁ, এ তো সেই, যাকে ভালোবেসে
ঘোর অমাবস্যায় রাহুর মুখ থেকে চাঁদ ছিনিয়ে আনতে
                                      ছুটেছিলে বারবার ।
হ্যাঁ, এ তো সেই যে হতে পারত সত্যিকার সঙ্গী ।
তারপর কি যে হল ! স্পষ্ট নয় ।

অকস্মাৎ অন্তিম পাতাগুলো থেকে কিছু শব্দ লাফিয়ে বেরিয়ে এল,
মুঠো বন্দি হাতগুলো সামনে ফেলে ভেজা বারিষে বলল -
''কৃষ্ণগহ্বরে সূর্য জ্বালতে গিয়েছিলাম,
এই দেখো সেই সূর্য পোড়া ছাই !!'

বিকেল ৫ :২৫

বারান্দায় ফুটেছে মাধবীলতা আর তুমি ভুল করলে পথ

কি হবে ? যদি না থাকো বসন্ত উত্সবে !

বাড়ির পাশে-ই বাড়ি, বারান্দা'র পাশে বারান্দা।
দেখছি রেলিং-এ দুসরা লতা লুটায়,
ছাদে ধোঁয়া, আঁচে অবিরত পুড়ছে সাদা পালক,
ধিক ধিক জ্ব্লছে চোখ ।
মাধবীলতা এল না বারান্দায় …..

হয়তো আর আসবেও না ব্যর্থ দিনলিপিতে ।

সন্ধ্যা -৭ : ০৫

বিমর্ষ কফি হাউস ,আড্ডার আসরে
কে যেন বমি করে দিয়ে গেছে এক রাশ শোক।
মত নেই, মতান্তরেরা একাকীত্বে কেউবা গড়িয়াহাট
কেউবা পার্ক স্ট্রীট, নিউ টাউন...

রাত্রি ১০ : ০৫

অবশেষে তুমি ফিরলে , গঙ্গা থেকে
এই গাঙ্গেয় উপত্যকায়
লাশকাটা ঘর পেরিয়ে
              তুমি ফিরেছ অবশেষে ।
সাথে খাম বন্দি প্রথাসিদ্ধ সেই শ্বেতপত্র
"সুইসাইড
            খুন নয় !!

দিন দিন আগাছা যত ধরেছিলো জড়িয়ে
তাদের প্রাণপণে করেছিল সাফাই, তবু তারা
স্বীকার করেনি পরাজয়, কাঁটা তারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে
বারংবার করেছে আক্রমণ হানাদার সেজে 
এরপরও ...
              এরপরও !
                           সুইসাইড !!
অজস্র তারা খসে পড়ল মহাশুন্যে আমারই বিস্ময়ে,
বিষবৃক্ষ হতে টুপ টুপ পড়ছে
                           বিষাদ বীজ ।


রাত্রি ১১ : ২৫

তুমি শান্তি পেয়েছ ? ঐ ওপারে ?
ঐ যেখানে শরত আসেনা কখনও আমলকী' বনে !

ঝরা পাতার শোক সমারোহে রাত জাগা পেঁচাটাও
বিবাগী আজ ,তার চিৎকারে বারবার ধ্বনিত হচ্ছে -
" বদলাও সব বদলাও... "

কিন্তু, কে ! কে রচবে সেই ধংসলীলা সৃজনের পূর্বাভাসে ?
পার্বতী নয় , আজ মরেছে যে তুমি শিব !


রাত্রি ১ : ১০

মুখোশ পছন্দ করতে না বলেই আগুন দিলাম তোমায় ।
ক্ষীণ কান্না দুর্বল হতে দুর্বলতর হচ্ছে । 
আমার প্রান্তিকে আমি একা নিথর পাথর

ঝরনায় বাজছে কেবলই মেঘমল্লার ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন